বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
মিথ্যা খবর থামাতে সরকার-ইসির কড়া বার্তা দেশজুড়ে আলোচনায়
অনলাইন ডেস্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের পাশাপাশি মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও ‘মিথ্যা ও উসকানিমূলক’ খবরের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের দাবি, সরকার ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নানা গুজব ও ভ্রান্ত সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে। শুধু ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ সংবাদমাধ্যম নয়, মূলধারার কয়েকটি মাধ্যমেও চলছে অপসাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। গত বুধবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তারা এ মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, সেখানে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু গণমাধ্যম সরকার ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক খবর প্রকাশ করছে, যার সত্যতা নেই। প্রতিবাদ জানালেও সেসব সংবাদ প্রচার বা প্রকাশে গড়িমসি করা হচ্ছে। ফলে এসব খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা কমছে এবং বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এজন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, প্রথমে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি উত্থাপন করেন। এরপর আরও কয়েকজন সচিব এতে সমর্থন জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাকে উদ্দেশ করে বলেন, “মূলধারার গণমাধ্যমেও এখন মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রচার হচ্ছে। আপনারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? এসব থামানো জরুরি।” ইসি সচিবও নির্বাচন ঘিরে ‘মুখরোচক বানোয়াট’ সংবাদ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যাচার, উসকানি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সম্প্রচারের পরও আমরা সেন্সর করিনি বা প্রতিশোধ নিইনি।” নোয়াবের বিবৃতির জবাবে গত শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘রেসপন্স টু নোয়াব: সেটিং দ্য রেকর্ড স্ট্রেইট’ শিরোনামে তিনি পোস্ট দেন।
তিনি আরও লিখেছেন, “টিভি টকশো ও কলামে সরকারকে নিয়ে বহু মিথ্যা ও উসকানিমূলক দাবি এসেছে। তবু আমরা কোনো লাইসেন্স স্থগিত করিনি, বরং অতীত শাসনামলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু গণমাধ্যমের পুনঃপ্রকাশের পথ খুলে দিয়েছি। এটি প্রমাণ করে আমরা বাকস্বাধীনতা ও মুক্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।”
এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে বৈঠকে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়। ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও সেনাবাহিনীতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়, যাতে নির্বাচনকালে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা সম্ভব হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যা বড় আকারের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সম্ভাবনাও ইঙ্গিত দিচ্ছে।